
জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ যা মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থাও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র । ২৫ এ ডিসেম্বর ২০২১ সালে এই দূরবীক্ষণযন্ত্রটি মহাকাশে পাঠানো হয় । এর আগে ২৪ এ এপ্রিল ১৯৯০ সালে হাবল টেলিস্কোপ নামক একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে মহাকাশে পাঠানো হয়। যা আমাদের মহাকাশ সম্পর্কে নানান ধরনের তথ্য ও ছবি প্রেরন করতে থাকে, যার ফলে আমরা মহাকাশসম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি । এবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে যা হাবল টেলিস্কোপ এর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক এবং এর মধ্যে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়েছে যার মাধ্যমে এই টেলিস্কোপ ১৩ মিলিয়নআলোকবর্ষ দূর পর্যন্ত ছবি তুলতে সক্ষম । এই ছবির মাধ্যমে আমরা জানতে পারব মিলিয়ন মিলিয়ন বছর আগে তারা, নক্ষত্র, গ্রহের অবস্থান কেমন ছিল । জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন গ্রহ আবিষ্কার করতে পারব, এর আধুনিক প্রযুক্তির ফলে আমরা জানতে পারব কোন গ্রহে কোন ধরনের উপাদান রয়েছে । এই দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি হাবল টেলিস্কোপ এর তুলনায় স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে । জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি নির্মাণে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে । পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দুর পৃথিবীর ছায়াতলে এই মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রটিকে অবস্থান করানো হয়েছে যাতে করে সূর্যের আলো এই যন্ত্রটির উপর না পরে, কারণ সূর্যের আলো এই টেলিস্কোপের উপর পরলে তাপে যন্ত্রটির মধ্যে নানান ত্রুটি দেখা দিতে পারে । জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সবসময় পৃথিবীর ছায়াতলে বা অন্ধকার পার্শে থেকে পৃথিবীর সাথে সাথে একইসময়ে বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে এবং মহাকাশের নানান ধরনের তথ্য ও ছবি পৃথিবীতে প্রেরন করতে থাকবে ।
No comments